Responsive Ad

ভাবি যখন বউ (পর্বঃ-১৪)__Vabi when wife__(part-14)

ভাবি যখন বউ

Vabi my wife__14
ভাবই যখন বউ-১৪

পর্ব_১৪

বিকালবেলা অবন্তীকে কল দিলাম, কিছুক্ষণ পর অবন্তী কল ধরলো….
আমিঃ ওই কল ধরতে এতো দেরি করো কেন?
অবন্তীঃ ধুর বইলো না, বাচ্চাকাচ্চা গুলা পুরা পাগল করে দিচ্ছে। আমার সব জিনিষ এলোমেলো করে ফেলেছে।
আমিঃ ও,,,
অবন্তীঃ এই জুয়েল!
আমিঃ হুম বলো!
অবন্তীঃ কি করো?
আমিঃ এতোক্ষন কাজ করলাম তাই তোমার খবর নিতে পারিনি, তাই এখন কল দিলাম।
অবন্তীঃ ও আচ্ছা।
আমিঃ তুমি কি করো?
অবন্তীঃ এই তো পার্লারে যাবো রেড়ি হচ্ছি।
আমিঃ আমি আসবো?
অবন্তীঃ তুমি আসবা কেন?
আমিঃ তোমাকে কিভাবে সাজায় দেখবো, আর সাজালে কেমন লাগে সেটাও দেখবো।
অবন্তীঃ অতো দেখতে হবে না। সারা জীবন দেখছো, ভবিষ্যতেও দেখবা। সো টেনশন করার দরকার নেই।
আমিঃ হুম।
অবন্তীঃ আচ্ছা রাখি, পরে কথা বলবো।
কলটা কেটে দিলো। বিকাল থেকেই মেহমান আসতে শুরু করে দিয়েছে। একে একে সবাই আসলো। আয়মানও ব্যস্ত…..
আয়মানঃ কিরে তুই এখানে?
আমিঃ হুম, আচ্ছা তুই আমাদের বন্ধের সবাইকে কল দিয়ে দেখতো ওদের কি অবস্থা! কখন আসবে?
আয়মানঃ আচ্ছা দিতেছি। লিমা আসবে?
আমিঃ যাহ শালা! আমি তো লিমার কথা ভুলেই গেছিলাম। দাঁড়া কল দিই, ও না থাকলে আমার বিয়েও হতো না।
লিমাকে কল দিলাম,,,,,
আমিঃ হ্যালো লিমা!
লিমাঃ হুম দোস্ত বল।
আমিঃ কিরে তুই আসছিস না।
লিমাঃ আমি এসে কি করবো, তোরা সেরে নে। আমি নাহয় কালকে আসবো।
আমিঃ কালকে আসবি মানে!আমি এতো কিছু বুঝি না। তুই এক্ষুনি আসবি।
লিমাঃ কিন্তু আমার সাথে তো সানি আছে।
আমিঃ তো সমস্যা কোথায়? সানিরেও নিয়ে আয়।
লিমাঃ আচ্ছা ঠিক আছে,নিয়ে আসছি।
আমিঃ হুম তাড়াতাড়ি আয়।

Also Read:-




কল কেটে দিলাম। তারপর আরো কিছু কাজ সেরে নিলাম। সন্ধ্যায় গোসল করে নিলাম। এরপর রেড়ি হলাম, আয়মান আমাকে সাজিয়ে দিলো। দুজনে একই পাঞ্জাবি পরলাম।
রাত ১১ টা পর্যন্ত গান বাজনা হলো। আমার বন্ধুরা হাকিম, ফাহাদ, ফারুক, সাদ্দাম সবাই উরাধুরা নাচলো। ওদের সাথেও আমিও নাচলাম। আসলে নিজের বিয়েতে নিজে নাচার মধ্যে অন্যরকম একটা আনন্দ আছে।
কিছুক্ষণ পর লিমা আসলো, আমি ওর সাথে কথা বলে নিলাম, ও সানির সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দেয়। তারপর ওদের ভিতরে যেতে বলি।
১১ টার পর হলুদের কাজ শুরু হলো। শুরুতেই আব্বু আম্মু দুজনে আসলো, আমাকে মিষ্টি খাইয়ে দিয়ে যখন হলুদ মাখতে যাবে তখনই দুজনে কাঁধতে শুরু করলো আমাকে জড়িয়ে ধরে।
আমিও নার্ভাস হয়ে গেলাম। তারপর আয়মান হাকিম ফাহাদ এসে উনাদের সব বুঝিয়ে আবারও পরিস্থিতি ঠিক করলো।
তারপর আয়মান, হাকিম, ফাহাদ, লিমা, সানি, সাদ্দাম একে একে এসে হলুদ মেখে গেলো। আত্নীয় স্বজন সবার হলুদ দেওয়া শেষ শুধু একজন ছাড়া,যে জীবনেও আমাকে হলুদ দিতে পারবে না। সে হচ্ছে আমার ভাই, ভাইয়া বেঁচে থাকলে হয়তো ভাইয়া সবার আগে আমাকে হলুদ দিতো।
ভাইয়ার কথা মনে পরতেই মন টা খারাপ হয়ে গেলো।
আমার মন খারাপ দেখে বন্ধুরা সবাই আসলো….
আয়মানঃ কিরে আপসেট কেন?
আমিঃ এমনি।
হাকিমঃ মামা একটা কাজ কর।
আমিঃ কি?
হাকিমঃ চল তোর বউকে হলুদ দিয়ে আসি।
আমিঃ আরে ধুর জামাই কখনো বউকে হলুদ দিতে দেখেছিস?
ফাহাদঃ আরে ব্যাটা কয়জন জামাই পারবে নিজের বউকে গায়ে হলুদ দিতে। চল এটা হবে অন্যরকম গায়ে হলুদ।
আমিঃ তারপরেও….
হাকিমঃ আরে ব্যাটা এতো কথা বলদ কেন? চলতো,,,
আমিঃ এতো রাতে গাড়ি কোথায় পাবি?
আয়মানঃ গাড়ি লাগবে না, বাইক আছে। আমার টা আর ফাহাদের টা নিলে হয়ে যাবে।
আমিঃ আচ্ছস ঠিক আছে চল।
এরপর বাইক নিয়ে আমি আর হারামি গুলা অবন্তীদের বাসার দিকে রওনা দিলাম। পুরো রাস্তা ফাঁকা, গভীর রাত হওয়ায় রাস্তায় গাড়ি তেমন নেই।
স্পিডে চালিয়ে অবন্তীদের বাসার সামনে চলে গেলাম।
গেইট পার হয়ে ভিতরে গেলাম। চারপাশে কেমন হইচই,আমার এক প্রকার লজ্জাও করতেছে।
হলুদের রাত কোথায় জামাই নিজের বাসায় থাকবে সেটা না করে বউয়ের বাসায় চলে এসেছে। মানুষ কি বলবে আল্লাই জানে।
আমাদের কে দেখে সবাই একটু অবাক হলো। আসলে হওয়ারই কথা, অবন্তীর বাবা এগিয়ে আসলো।
শ্বশুরঃ আরে জুয়েল! বাবা আসো আসো…
হাকিমঃ জুয়েলের অনেক ইচ্ছা হইছে, সে নাকি অবন্তীকে মানে আপনার মেয়েকে হলুদ লাগাবে।
শ্বশুর হাসতে লাগলো, হারমিটা আমাকে জায়গা মতো বাঁশ দিলো।
শ্বশুর সামনে দিয়ে হাটতে লাগলো আর আমরা পিছনে,,,
আমিঃ এই শালা আমি এসেছি নাকি তোরা নিয়ে আসছিস?
ফাহাদঃ ঠিক আছে চল তাহলে তোর হলুদ দেওয়া লাগবে না।
আমিঃ মানে কি! তাহলে নিয়ে আসলি কেন?
হাকিমঃ এই চুপ থাক। আমরা এসেছি ভালো কোনো মেয়ে পাই কিনা সেটা দেখার জন্য।
আমিঃ শালা, এতোক্ষনে তোদের মতলব বুঝেছি। দাঁড়া আমি সবাইকে বলে দিবো।
ফাহাদঃ তাহলে বলবো তুই বাসা থেকে চুরি করে এখানে এসেছিস। কাওকে না জানিয়ে, পিছনের দরজা দিয়ে চোরের মতো বের হয়ে এখানে এসেছিস।
আমিঃ ব্যাল্ক মেইল করছি।
আয়মানঃ এই চুপ থাক। আগে ভিতরে চল।
ভিতরে গেলাম। সবাই অবন্তী কে হলুদ লাগাতে ব্যস্ত। আমাদের কে দেখে একটু টাসকি খেলো।
ভিতরে গিয়ে বসলাম। অবন্তীর হলুদ লাগানো প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর কয়েকজন বাকি আছে।
অবন্তীর আত্নীয়রা সবাই এসে আমাদের সাথে কথা বলতে শুরু করলো। যথেষ্ট আপ্যায়ন করা হলো।
অবন্তী আমাকে দেখে বার বার তাকাতে লাগলো। আর অবন্তীর দিক থেকে চোখ অন্য কোথাও ফিরাচ্ছি না। কারন অবন্তীকে অসাধারণ লাগছে।
আমরা গিয়ে কয়েকটা চেয়ার নিয়ে বসলাম। আমাদের কে হলুদ দেওয়ার জন্য ডেকে নিলো।
প্রথমে সাদ্দামকে পাঠালাম, তারপর ফাহাদ, হাকিম, আয়মান সব শেষে আমি।
আমি গিয়ে অবন্তীর পাশে বসলাম। কানে কানে বললাম…..
আমিঃ সারপ্রাইজ টা কেমন দিলাম?
অবন্তী মুছকি মুছকি হাসছে, একটু পর হাকিম এসে আমার কানে কানে বললো….
” বাটির মধ্যে যতো গুলো হলুদ আছে সব গুলো একসাথে মাখবি, যদি একটুও কম হয় তাহলে এখানে চিৎকার দিয়ে এমন বাঁশ দিবো কল্পনাও করতে পারবি না।
আমি পুরা আবুল হয়ে গেলাম। বাকি হারামি গুলোর দিকে তাকালাম ওরা ইশারায় সেটা করতে বললো।
কি করবো বুঝতে পারছি না। এমন সময় অবন্তী একটা মিষ্টি আমার মুখের সামনে তুলে ধরে। আমার দিকে তাকিয়ে মুছকি একটা হাসি দিলো, আমি খেয়ে নিলাম তারপর ওরেও খাইয়ে দিলাম।
তারপর অবন্তী অল্প একটু হলুদ নিয়ে আমার মুখে আর গলায় মেখে দেয়, আমি ওই হারামী গুলোর দিকে তাকালাম। সবাই ইশারায় বলতেছে সব গুলো লাগিয়ে দেওয়ার জন্য।
তারপর আমি অবন্তীকে ইশারায় অন্য দিকে তাকাতে............
চলবে....

পরের পর্ব পেতে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন??

Post a Comment

0 Comments