Responsive Ad

আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটকে সহজেই কিভাবে গুগলে র‍্যাংক করাবেন। ব্লগাররা জেনে নিন

গুগলে ওয়েবসাইট র‌্যাংক করানোর স্টেপসমূহ__________
seo og blogger
Seo-master


এই পোষ্টের ভিজিটর দের মধ্যে কৃষক পরিবারের সন্তান কে কে আছেন? নিচে কমেন্ট করে জানিয়েন।

হঠাৎ এই প্রশ্নটি কেন করলাম হয়ত একটু কৌতুহলী হচ্ছেন, তাই না?

আচ্ছা একটু বুঝিয়ে বলি। আমার মতে এই পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো পেশাজীবীর মানুষ হচ্ছেন সারা পৃথিবীর কৃষকরা।

মানুষের মৌলিক চাহিদার ১ম অংশটি হচ্ছে খাদ্য। আর সেই খাদ্যের উৎপাদক বা পর্যবেক্ষক বলা যায় এই কৃষক সমাজকে।

তাই আমি সব সময় চেষ্টা করি অন্তত এই খেটে খাওয়া মানুষদের সম্মান করার। তারা কষ্ট করে পরিশ্রম করে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে বহু কষ্ট করে ফসল ফলায়। উপার্জনের প্রতিটি টাকা তাদের হালাল।

তারা আমাদের মতো শিক্ষিত সমাজের মতো ঘুষখোর নয়, দুর্নীতিবাজ নয়।

কিন্তু গুগলে ওয়েবসাইট রাংক করানোর সাথে এই কৃষকের সর্ম্পক কি সেটাই তো ভাবছেন তাই না?

সরাসরি কোনো সর্ম্পক নেই। কিন্তু কিছুটা সর্ম্পক আছে। সত্যি কথা বলতে গেলে, আমি জানি না এই গ্রুপে আপনাদের মধ্যে কে কে জমিতে কোনো দিন ধান রোপন করেছেন, পুকুরে মাছ ধরেছেন কিন্তু এগুলি আসলে ভাই আমার কপালে জুটে নি।

আমি ছোটবেলা থেকেই শহরে বড় হয়েছি। আমার ছোটবেলা সব সময়ই কেটেছে শহরে। তাই গ্রামের সেই পরিবেশ প্রকৃতি সর্ম্পকে আমার ধারনা কম।

যেহেতু সে সর্ম্পকে আমার ধারনা কম, তাই কোন মৌসুমে কোন ফসল রোপন করতে হবে, কখন সেচ দিতে হবে এসব সর্ম্পকেও আমার ধারনা কম।

কিন্তু আমি অবাক হয়ে দেখি গ্রামের মানুষজন কি সুন্দর ভাবে তারা বাংলা মাসের হিসাব মনে করে, তাদের যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই তারা এক সেকেন্ডে বলে দিতে পারে যে কোন মৌসুমে কি ফসল লাগাতে, কখন কি করতে হবে না করতে হবে?

আচ্ছা একটা বিষয় বলুন তো। ধরুন (আমি আসলে জানি না। তাই ধরতে বলছি) আষাঢ় মাসে আমন ধান লাগানোর সময়। এ সময় সবাই জানি যে আমন ধান লাগাতে হয়।

এখন কোনো কারনে, ধরুন কোনো একটি কারনে আপনি সেটি করতে পারলেন না। আষাঢ় মাসে আপনি আপনার জমিতে আমন ধান লাগাতে ব্যর্থ হলেন।

আপনি কি সারা বছর আপনার জমি তখন খালি ফেলে রাখবেন?

নিশ্চয়ই না।

আপনি এর কোনো বিকল্প পদ্ধতির কথা চিন্তা করবেন। কি করা যেতে পারে? আমন ধান লাগাতে ২০ দিন দেরি হলেও কিভাবে এটি লাগানো যায় বা এর পরিবর্তে কি চাষ করলে আপনি আপনার ধানের ক্ষতিটা পুষিয়ে উঠতে পারবেন সেটি আপনি নিশ্চয়ই জানেন।

কিন্তু তাই বলে যে আপনার ধান লাগানোর কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই বা একবার নিয়মের বিভ্রান্তি ঘটলে যে সেটা আর সংশোধন করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টা এমন নয়।

হ্যা, আপনি সংশোধন করতে পারবেন। তবে তার জন্য হয়ত আপনাকে অতিরিক্ত সময় ও পরিশ্রমকে বির্সজন দিতে হবে।

ঠিক এসইও ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রেও এই কথাটি প্রযোজ্য। আমার জীবনে আমি এমন এসইও এর ক্লায়েন্ট খুবই কম পেয়েছি যারা ওয়েবসাইট বানানোর আগে এসইও এক্সপার্ট এর খোজঁ করেন।

তারা সব সময়ই ওয়েবসাইট বানিয়ে ফেলার পরে তারপর একজন এসইও এক্সপার্টকে হায়ার করেন তাদের সাইটকে গুগলের ১ম পেজে রাংক করিয়ে দিতে।

এবং তখনই বেশিরভাগ সময় দেখা যায় যে হয়ত তাদের সাইটের কোডিং স্ট্র্যাকচারে কিছুটা ভুল আছে, বা পেজ টাইটেল কে সাইট ডেভলোপার হেডিং ১ এ না দিয়ে হেডিং ৩ এ দিয়েছে – এরকম নানান সমস্যা।

যেসব প্রশ্নঃ সবসময় মাথায় ঘোরে  -

* সিইও এর কাজ কি
* সিইও ওয়েস্ট বেঙ্গল
* সিইও ইয়াসির আজমান
* সিইও কি
* সিইও হতে
* সিইও মানে কি
* সিইও হওয়ার যোগ্যতা
* সিইও বেতন
* সিইও google

* সিইও west bengal

তখন আবার বাধ্য হয়ে আমাদেরকে ডেভলোপারের পিছনে দৌড়াঁনো লাগে সমস্যাগুলিকে সমাধান করে দেওয়ার জন্য।

একটা সাইট তৈরি করার সময় সেখানে একজন ডেভলোপারের পাশাপাশি যে একজন এসইও এক্সপার্ট এর চোখেরও দরকার আছে, সেটা আমরা অনেক সময় ভু্লেই যাই।

যাই হোক, তো আপনি যদি একটি ওয়েবসাইটের মালিক হয়ে থাকেন বা কোনো ওয়েবসাইটের এসইও করে দেওয়ার জন্য যদি কোনো কাজ পেয়ে থাকেন তাহলে অনেক সময় দেখা যায় আপনি ওই কৃষকের মতো ঠিক করতে পারেন না যে ২০ দিন পরে ধান লাগাতে গেলে কিভাবে করে কাজটি করা যায় বা ধানের পরিবর্তে কি লাগালে কাজটি সহজে করা সম্ভব।

সে জন্যেই আজকের এই পোস্ট। আমি এই পুরো প্রক্রিয়াটি কে দু’টো পার্টে ভাগ করেছি।

১। আপনি যদি কোনো ক্লায়েন্ট এর নির্দিষ্ট একটি পোস্টকে রাংক করিয়ে দিতে চান, তাহলে তার জন্য মেথডে কাজ কারতে পারেন।

২। আর যদি ক্লায়েন্ট এর পুরো সাইটকে নিয়ে কাজ করতে চান, তাহলে আরেকটি মেথডে কাজ করতে পারেন।

প্রথমে ১মটি দিয়েই শুরু করি। ধরুন ক্লায়েন্ট আপনাকে বলল যে আপনি তার একটি পোস্টকে নির্দিষ্ট একটি বা কয়েকটি কীওয়ার্ডে গুগলের ১ম পেজে রাংক করিয়ে দিবেন।

তাহলে সবার প্রথমেই দেখবেন সাইটের অনপেজ ঠিক আছে কি না। যেহেতু তার ওয়েবপেজ রেডি তার মানে তার সাইটের কনটেন্টও রেডি আছে।

যেহেতু কনটেন্ট রেডি আছে সেক্ষেত্রে দেখার বিষয় এই কনটেন্ট আপনার কম্পিটিটরদের তুলনায় যথেষ্ট কিনা।

যারা অলরেডি রাংক করে আছে তাদের একেক জনের কনটেন্ট হচ্ছে ৩/৪ হাজার ওয়ার্ডের। আর আপনার কনটেন্ট হচ্ছে ৩০০ ওয়ার্ডের। তাহলে তো আর আপনি এই কনটেন্ট দিয়ে রাংক করতে পারবেন না।

কারন গুগল অলরেডি আপনার থেকে বেশি ভ্যালু পাস করছে এমন লোকজনকে পেয়ে বসে আছে।

তাহলে সে কেন আপনাকে তাদের জায়গার পরিবর্তে বসতে দিবে?

তবে হ্যা, তারা যদি সব হাবিজাবি টাইপের কথাবার্তা দিয়ে তাদের কনটেন্ট ভরিয়ে রাখে তাহলে তো আর হবে না।

তখন আপনাকে খেয়াল করতে হবে কাজের কথা তারা কতটুকু বলেছে। আপনি যদি তার ২০% বেশি দিতে পারেন; তাহলেও আশা করা যায় যে আপনার রাংক করার সম্ভাবনা আছে।

সহজ সূত্র মনে রাখবেন, যারা অলরেডি রাংক করে আছে তাদের থেকে আপনাকে আপনার ইউজারকে বেশি তথ্য, বেশি ডাটা, বেশি ভ্যালু পাস করতে হবে।

একটৃ সহজ ভাবে ভাবুন তো, আপনার কোম্পানীতে একজন বর্তমান যাকে ম্যানেজার হিসেবে রেখেছেন আপনি যদি তাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে তার জায়গায় বসাতে চান তাহলে কি আপনি তার থেকে ভালো কাউকে নিয়ে আসবেন নাকি তার সমান কাউকে নিয়ে আসবেন?

অবশ্যই তার থেকে ভালো কাউকে খুজঁবেন আপনি।

কারন তার সমান হলে তো যাকে এখন চাকরিতে রেখেছেন তিনিই ভালো আছেন, নতুন করে আরেকজনকে নেওয়ার দরকার কি?

আর তার থেকে খারাপ কাউকে আনার তো প্রশ্নই আসে না।

এই জিনিসটা গুগলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সেও চাইবে যারা অলরেডি রাংকে আছে তাদের থেকে ভালো কাউকে তাদের জায়গায় বসাতে।

তাদের সমান বা খারাপ কাউকে নয় (এ ব্যাপারে গুগলের ২০০+ রাংকিং ফ্যাক্টর আছে। সব দিক দিয়েই গুগল এই সিদ্ধান্ত নিবে। শুধুমাত্র আপনার কনটেন্ট এর জোরেই যে আপনি পুরো রেজাল্ট পেজ উল্টিয়ে ফেলবেন এমনটা ভাবা মোটেও ঠিক নয়। তবে হ্যা, কনটেন্ট ভালো হলে এটা অবশ্যই আপনাকে খুবই খুবই ভালো একটা রাংক পেতে সাহায্য করবে)।

আচ্ছা ধরে নিলাম আপনি ক্লায়েন্ট এর সাইটের অনপেজ ঠিক চেক করলেন এবং ভুল থাকলে সেটি সংশোধন করলেন। এবার তার কনটেন্টও চেক করলেন এবং পর্যাপ্ত পরিমানে কনটেন্টও লিখলেন।

এবার তাহলে আসি টেকনিক্যাল এসইও এর কথা।

কিছু দিন আগ পর্যন্ত এই বিষয়টি অনেকটা অনপেজের ভিতরেই ধরা হতো। তবে বর্তমানে গুগল সাইটের ইউজার এক্সপেরিয়ান্সকে প্রচন্ড পরিমানে প্রাধান্য দিচ্ছে বিধায় এসইও ইন্ডাস্ট্রিতে এই টেকনিক্যাল এসইও নামে নতুন একটি টার্মের জন্ম হয়েছে বলা চলে।

এখন গুগল আপনার সাইটের বাউন্স রেট, সেশন টাইম বা টাইম অন সাইট, সিটিআর এগুলির উপর প্রচন্ড পরিমাণে ফোকাস করে।

তাই আপনাকে অবশ্যই আপনার ইউজার এক্সপেরিয়ান্সের দিকে জোর দিতে হবে। ইউজার এক্সপেরিয়ান্সের কথা আসলেই অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন সাইটের লোডিং স্পীডের উপর।

একটা পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে আপনার সাইটের লোডিং স্পীড যদি ২/৩ সেকেন্ডের বেশি হয় তাহলে প্রায় অর্ধেক ভিজিটর আপনার সাইট থেকে চলে যায়।

তাই চেষ্টা করুন আপনার লোডিং স্পীড ২/৩ সেকেন্ডের মধ্যে রাখার। কিন্তু সমস্যাটি হলো, লোডিং স্পীড কমানোর জন্য আপনার যদি একটি মাত্র আর্টিকেল নিয়ে কাজ করতে হয় তাহলে আপনার ক্লায়েন্ট আপনাকে খুব সম্ভবত সেটি করতে দিবে না।

সেক্ষেত্রে আপনি শুধুমাত্র ওই আর্টিকেল এর ইমেজগুলিকে কিছুটা কম্প্রেসিভ করে দিতে পারেন। তাতে কিছু লোডিং স্পীড কমার কথা।

আর ক্লায়েন্টকে যদি পুরো সাইটের লোডিং স্পীড কমানোর জন্য সার্ভার পরিবর্তন করা থেকে শুরু করে সিডিএন ব্যবহার করাতেও রাজি করাতে পারেন তাহলে তো খুবই ভালো।

এতে আপনার ক্লায়েন্টরই ভালো হবে। অন্তত আপনি তো আর তার খারাপ চাইছেন না।

এছাড়াও ওই পেজের টাইটেল ও মেটা ডিসক্রিপশনে কিছু পাওয়ার ওয়ার্ডস, কিছু ইমোশনাল ওয়ার্ডস ব্যবহার করতে পারেন।

এতে সিটিআর বৃদ্ধি পাবে। আপনার ইউজার এক্সপেরিয়ান্সও বৃদ্ধি পাবে।

এবার আসি অফপেজ বা লিংক বিল্ডিং এর ব্যাপারে। আপনার কম্পিটিটরদের লিংকগুলি অ্যানালাইসিস করুন। তারা কোন কোন সাইট থেকে লিংক নিয়েছে খেয়াল করুন।

১০০ টা হাবিজাবি সাইট থেকে লিংক নেওয়ার থেকে ১টা ভালো, নিশ রিলেভেন্ট অথোরিটি সাইট থেকে লিংক নেওয়া ভালো।

আপনার কাছে যদি মনে হয় যে তাদের প্রত্যেকের লিংকগুলো খুবই হাই পাওয়ারফুল। তাহলে চেষ্টা করুন তাদের থেকে কিছু হাই পাওয়ারফুল লিংক বিল্ডিং করার।

অথবা তারা যদি গড়ে ৫০/৭০ ডোমেইন অথোরিটি সাইট থেকে লিংক বিল্ডিং করে আপনি ৮০/৯০ অথোরিটি সাইট থেকে লিংক বিল্ডিং করার চেষ্টা করুন (সম্ভব হবে কি না জানি না। কারন যে সাইটের অথোরিটি ৯০ সে আপনাকে আদৌ দিবে কি না বা দিলেও টাকা চাইবে কি না আর চাইলেও কত টাকা চাইবে এসব ব্যাপার নির্ভর করবে। কারন বুঝতেই পারছেন যেহেতু তার অথোরিটি ৯০ সেহেতু তাকে ওই ইন্ডাস্ট্রি জায়ান্ট ফিশ বলা চলে। আপনার আমার মতো চুনোপুটিকে সে পাত্তা দিবে না এমনটাই স্বাভাবিক)।

তবে সব সময় খেয়াল রাখবেন কোয়ালিটি ফুল লিংক বিল্ডিং করতে কোয়ান্টিটি নয়।

একটা টিপস শেয়ার করি। যদি দেখেন যে ক্লায়েন্ট এর বলে দেওয়া কীওয়ার্ডে রাংক করা সাইটগুলোর অথোরিট খুব ভালো এবং লিংকগুলিও কোয়ালিটিফুল, সহজ কথায় সেটি যদি একটি হাই কম্পিটিটিভ কীওয়ার্ড হয়, তাহলে ক্লায়েন্ট এর সাথে আগেই কথা বলুন।

উনাকে অন্য কোনো লো কম্পিটিটিভ কীওয়ার্ডে রাংক করা যায় কি না সে ব্যাপারে বুঝিয়ে বলুন। অথবা তিনি যদি ওই কীওয়ার্ড নিয়েই কাজ করতে চান, তাহলে তাকে বাজেটের বিষয়টা বুঝিয়ে বলুন।

আমি সব সময় আমার ক্লায়েন্ট এর সাথে একটা ফর্মূলা মেনে চলতে চেষ্টা করি। আপনি যদি আমাকে সময় বেধেঁ দেন যে আপনাকে আমার ৩ মাসের মধ্যে বা ২ মাসের মধ্যে রাংক করিয়ে দিতে হবে, তাহলে প্রতি মাসে কত টাকা করে আপনার খরচ হবে সেটির এস্টিমেট আমি আপনাকে বলে দিব।

আর যদি আপনি আমাকে আপনার বাজেট বলে দিন যে, আপনার ৫০ হাজার টাকার বেশি বা ১ লাখ টাকার বেশি খরচ করার মতো অবস্থা নেই, তাহলে আমি আপনাকে সময় বেধেঁ দিব যে আমি আপনাকে এতো মাসে রাংক করিয়ে দিতে পারবো।

অর্থ্যাৎ, সময় ও বাজেট দু’টোর যেকোনো একটা ক্লায়েন্ট ঠিক করবে আর অন্যটা আমি ঠিক করবো।

এভাবে কাজ করলে আপনার কাজের কোয়ালিটি সম্পন্ন মান বজায় থাকলে বলে আশা করি। মনে রাখবেন ১০ ডলারের কাজ ১০ ডলার বলে কখনই অবহেলা করবেন না বা হেলাফেলা করবেন না।

১০ ডলারের কাজ করার জন্য হয়ত আপনাকে ১ মাসও পরিশ্রম করা লাগতে পারে কিন্তু সেই ১০ ডলার এর ক্লায়েন্ট এক সময় আপনার ১ হাজার ডলারের ক্লায়েন্টও হতে পারে।

তাই কাজকে ভালোবাসুন, প্যাশন নিয়ে কাজ করুন। এই পোস্টের ২য় পার্টে থাকবে একটি পুরো ওয়েবসাইটকে এসইও করার স্টেপ বাই স্টেপ প্রসেস।

ধন্যবাদ।



_________________________________




গুগলে ওয়েবসাইট র‌্যাংক করানোর স্টেপসমূহ – ২




গত পর্বে আমরা দেখেছিলাম যে কিভাবে একটি পোস্ট কে আমরা গুগলের ১ম পেজে র‌্যাংক করতে পারি।

কিন্তু আপনার ওয়েবসাইটে একটি একটি করে পোস্ট করে ধরে ধরে যদি আপনি গুগলের ১ম পেজে র‌্যাংক করাতে চান তাহলে আপনার অনেক সময় চলে যাবে।
কারন একটি ওয়েবসাইট সাধারনত গুগলের ১ম পেজে র‌্যাংক করতে ৩ মাস সময় লাগে।
তবে হ্যা, কখনও কখনও এর কম সময়েও ওয়েবসাইট র‌্যাং করা যায়। যেমন কেজিআর কীওয়ার্ড ব্যবহার করলে তো অনেক সময় দেখা যায় ২ দিনের মধ্যেই ওয়েবসাইট টপ ৫০ এর মধ্যে চলে আসে।
সে সব কথাবার্তা যদি একটু সাইডে রেখে কথা বলি তাহলে সাধারনত একটি ওয়েবপেজকে গুগলের ১ম পেজে র‌্যাংক করতে হলে আপনার ৬ মাস সময় ধরে রাখা উচিত।
যদিওবা সেটা কখনও কখনও কীওয়ার্ড এর উপর ভিত্তি করে ১ বছর লাগে। তবে সেটা নিয়ে আর কথা বলছি না।
আমি ৬ মাসই ধরছি।
তাহলেও কিন্তু আপনি আপনার সাইটের সব পেজ নিয়ে কাজ করতে পারবেন না। এটা সম্ভব নয়।
সম্ভব করতে হলে আপনাকে বিশাল বড় একটা টিম নিয়ে কাজ করতে হবে, যার জন্য আপনার অতিরিক্ত অনেক টাকা খরচ যাবে।
একটা সহজ উদাহরন দিই। বর্তমানে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট নিশ সাইট আমাদের দেশে খুব জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি।
একটি অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট নিশ সাইটে মোটামুটি ৫০টি পোস্ট থাকতে পারে। কখনওবা তার কম বা বেশিও থাকে।
তবে আমি গড়ে ৫০টি ধরলাম।
একটা বিষয় হিসাব করে দেখুন তো। ওই ভদ্রলোক যদি প্রতিটি পোস্টের জন্য আলাদাভাবে কাজ করতে যান, তাহলে তার একটি পোস্টের পিছনে যদি ৬ মাস সময় লাগে র‌্যাংক করতে তাহলে কিন্তু তার ৫০টি পোস্ট র‌্যাংক করতে ৩০০ মাস সময় লাগার কথা।
মানে ১০ বছরেরও বেশি সময়। কিন্তু আদৌ কি কোনোদিন এটা হয়?
কখনই না। বরং বিষয়টা অনেকটা হাস্যকরও বটে।
একটা নিশ সাইটেরই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে একবার ভাবুন তো ইকর্মাস সাইটের ক্ষেত্রে কি হবে?
কতগুলি প্রোডাক্ট পেজ থাকে একটা ইকর্মাস সাইটে? কতগুলি ক্যাটাগরি পেজ থাকে সেই সাইটে? আবার সেই সব পেজের অনপেজ, কনটেন্ট রাইটিং এতো কিছু কি আপনার একার পক্ষে করা সম্ভব?
নিশ্চয়ই না।
কিন্তু তাহলে উপায় কি? কিভাবে মানুষ এতো সুন্দরভাবে এতো কিছু করছে?
এর উত্তরটা আসলে খুবই সহজ।
গুগলে যখন আপনি কোনো একটি কীওয়ার্ডের জন্য রাংক করেন তখন তার পাশাপাশি আরো কিছু রিলেভেন্ট কীওয়ার্ডে গুগল আপনাকে রাংক দিয়ে দেয় অটোম্যাটিকলি।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় LSI কীওয়ার্ডগুলি থেকেই এমনটা হয়ে থাকে।
অর্থ্যাৎ আপনার সাইটে ৫০টা পোস্ট থাকা মানেই কিন্তু এই না যে আপনাকে সেই ৫০টি পেজের জন্যেই কাজ করতে হবে।
আপনি কাজ করবেন হয়ত ১০/১৫টি পেজের জন্য। ওই পেজগুলির জন্য যদি আপনি র‌্যাংকে আসতে পারেন দেখবেন গুগল নিজেই আপনাকে আরো ৫/১০টি কীওয়ার্ডে এমনিতেই র‌্যাংক করিয়ে দিবে।
তবে এক্ষেত্রে আপনি যদি নতুন কোনো সাইট শুরু করেন তাহলে তার আগেই আপনাকে চিন্তা করতে হবে যে আপনি কোন কোন কীওয়ার্ডে র‌্যাংক করতে চাচ্ছেন, কিভাবে করতে চাচ্ছেন, কোনগুলি নিয়ে আপনি প্রথম থেকেই কাজ করবেন ইত্যাদি এসব।
অর্থ্যাৎ আপনার কীওয়ার্ড রিসার্চটি আগে থেকেই করে নিতে হবে। তারপর কনটেন্ট রাইটিং শেষ করে তারপর আপনাকে হাত দিবে সাইটর অনপেজের দিকে।
আর টেকনিক্যাল এসইও এর কথা আশা করি আর বলে দেওয়া লাগবে না। সেটা আপনারা বুঝতেই পারছেন।
আর সাইট করার পর পরই সাথে সাথে অফপেজ বা লিংক বিল্ডিং শুরু করবেন না।
বিষয়টা ন্যাচারাল বলে দেখায় না। গুগল সব সময় ন্যাচারাল জিনিস দেখতে বেশি পচ্ছন্দ করে।
এই বিষয়গুলি খুবই সহজ আপনার জন্য যখন আপনি নিজে কোনো সাইট করছেন। কিন্তু আপনি যদি ক্লায়েন্ট এর সাইটে কাজ করেন তাহলে দেখবেন ঝামেলা অলরেডি সেখানে আপনার জন্য রেডি হয়ে বসে আছে।
সেক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমেই ক্লায়েন্ট এর সাইটের জন্য একটি নিবিড় এসইও অডিট করতে হবে।
মনে রাখবেন, এসইও অডিট খুবই পাওয়ারফুল একটি জিনিস। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ আপনাকে যে এসইও অডিট করে দিবে সেটিতে আপনাকে আপনার সাইটের ব্যাসিক কিছু জিনিস নিয়ে কথা বলবে।
আপনার সাইটের এসএসএল সার্টিফিকেট আছে কিনা, হোম পেজে টাইটেল ট্যাগ আছে কি না, ক্যানোনিক্যাল ইউআরএল ঠিক আছে কি না এসব নিয়ে কথা বলবে।
বাহিরের দেশে এই এসইও অডিট করে দেওয়ার জন্যেই এজেন্সীগুলি ২/৩ হাজার ডলার চার্জ করে।
তাই ভালো ভাবে এসইও অডিট করুন। আপনার নিজের সাইটের জন্যে হলেও প্রতি মাস ২ মাস পরপর, পারলে প্রতি মাসে ১ বার করে হলেও এসইও অডিট করার চেষ্টা করুন।
যতো জায়গায় ভুল পাবেন সবগুলি আগে ঠিক করুন। সব। কিচ্ছু বাদ দিবেন না।
আপনার সাইটের মধ্যেই যদি ভুল থাকে, তাহলে গুগল আপনাকে কখনই ভালো চোখে দেখবে না।
অনেক সময় দেখা যায় অনেক ক্লায়েন্ট না বুঝে শুনে যেখানে খুশি ইচ্ছেমতো লিংক বিল্ডিং করে রাখে।
ওসব লিংক Disavow করে দিন। ইর-রিলেভেন্ট কোনো লিংক রাখার দরকার নেই।
আর ইর-রিলেভেন্ট কোনো নন ইনডেক্স কোনো লিংক থাকলে চেষ্টা করুন সেটি রিমুভ করার। কারন পরে সেটি কোনো সময় ইনডেক্স হলে সেটি আপনার জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।
একটু চিন্তা করুন। আপনার ক্লায়েন্ট এর পূর্বে করা ভুলের জন্য আপনি কাজ করা অবস্থায় কোনো কারনে যদি সাইট পেনাল্টি খায় তাহলে সেই ক্লায়েন্ট আপনার নামে পুরো মার্কেটে বদনাম ছড়িয়ে দিবে।
আপনি অন্তত একজন মানুষের চোখে ভালো হতে পারবেন না। তাই টাকার দিয়ে চিন্তা না করে বা ক্লায়েন্ট এর সাথে মিনমিন সুরে কথা না বলে জোর গলায় বলুন যে আপনার কাজ আপনি আপনার মতো করে করবেন।
বিশ্বাস করুন ভাই, জীবনে প্রথমদিকে এই জিনিসটার জন্য আমাকে অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
গুগল এখন আর সেই আগের ২০১০-১১ এর গুগল নেই যে আপনি কীওয়ার্ড স্টাফিং করে রাখলেই আর কয়েক হাজার ব্যাকলিংকের বন্যা বসিয়ে দিলে সে আপনাকে আদর করে ডেকে এনে তার ১ম পেজে বসিয়ে দিবে।
সে দিন ভাই অনেক আগেই চলে গিয়েছে। এখন এমন করলে পেনাল্টি খেতে দেরি হওয়ার কথা না। আপনাকে আদর করে স্যান্ড বক্সে পাঠিয়ে দিতে পারে গুগল।
তাই নিজের প্রফেশনালিসম বজায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করুন। তো এবার এসইও অডিট করে সব সমস্যা দূর করার পরে চিন্তা করুন ক্লায়েন্ট অলরেডি যে সব কীওয়ার্ডে টপ ১০০ এর ভিতরে আছে সেগুলি নিয়ে কিছু করা যায় কি না।
কারন, আপনি যদি নতুন করে কীওয়ার্ড রিসার্চ করতে যান, তাহলে সেটিও করতে পারেন। কিন্তু ক্লায়েন্ট অলরেডি যেসব কীওয়ার্ডে রাংক করে আছে, আপনি যদি সেগুলি নিয়ে হালকা কিছুটা কাজ করেন তাহলে গুগল আপনাকে রাংক দিয়ে দিতে পারে।
কারন গুগল অলরেডি মনে করছে আপনি ওই কীওয়ার্ডের জন্য রিলেভেন্ট। তাই ওই সব কীওয়ার্ডে রাংক করে ফেলতে পারে সাইটে কিছুটা অর্গানিক ভিজিটর আসা শুরু করবে।
এতে ক্লায়েন্টও কিছু খুশি থাকবে আর আপনারও লাভ।
যদি এরকম কোনো কীওয়ার্ড না পান তাহলে কিছু করার নেই আপনার। কষ্ট করে আবার আপনাকে কীওয়ার্ড রিসার্চ করতেই হবে।
কীওয়ার্ড রিসার্চ করা শেষ হলে তারপর আবার ধাপে কনটেন্ট রাইটিং থেকে শুরু করে অনপেজ ও টেকনিক্যাল এসইও এর দিকে মনোযোগ দিন।
এগুলি করা হয়ে গেলেই আবার অফ পেজের দিকে দৌঁড় দিবেন না।
সাইটটা ফেলে রাখুন ১/২ মাস। দেখুন কীওয়ার্ডে কি রকম পরিবর্তন আসছে। গুগল আপনাকে কি ধরনের একটা নাড়াচাড়া দিচ্ছে।
দেখবেন তখন গুগল নিজেই আপনাকে কোনো কোনো কীওয়ার্ডে গুগলের ২য় পেজ, আবার কোনোটাতে ৫ম পেজ এরকম ভাবে রাখবে।
কীওয়ার্ড রিসার্চ আর অনপেজ, টেকনিক্যাল এসইও ঠিকভাবে থাকলে তখনই দেখবেন কিছু কিছু লো কম্পিটিটিভ কীওয়ার্ডে আপনি রাংক করে গেছেন ১ম পেজে।
তবে এটা যদি ক্লায়েন্ট এর কাজ হয় তাহলে উনাকে আপনার প্রতিদিনিই কিছু না কিছু আপডেট দিতে হবে। তখন লিংক বিল্ডিং এর কথা না বলে প্রতিদিন চেষ্টা সাইটের কনটেন্ট এর দিকে মনোযোগ দিতে। ভালো মানের কনটেন্ট দিন।
প্রতি ২/৩ দিনে একটি করে কনটেন্ট দিন। কনটেন্টগুলোকে অপ্টিমাইজ করুন। আপনার সাইটের ওয়ার্ড সংখ্যা যতো বাড়বে, ততো সমৃদ্ধশালী হবে আপনার ওয়েবসাইট।
একটা জিনিস কি খেয়াল করেছেন? মজ এতো বড় একটি কোম্পানী কি দরকার তাদের এসব ব্লগ লেখার?
কেন মজ তাদের ব্লগ নিয়ে এতো সিরিয়াস? কেন Ahrefs তাদের ব্লগ নিয়ে এতো কাজ করে?
কেন কি ভাই ক্লায়েন্ট কম আছে? আমি কি Ahrefs এর ব্লগ পড়ে ভালো লেগেছে বলে Ahrefs কিনেছেন নাকি তাদের টুলটি আসলেই আপনার এসইও এর জন্য খুব হেল্পফুল বলে কিনেছেন?
তাহলে তারা দিনের পর দিন তাদের টুল আপগ্রেডের পাশাপাশি এতো সুন্দর সুন্দর ও ইনফরমেটিভ কনটেন্টও কেন দিচ্ছে তাদের ব্লগে? এতো কষ্ট করার প্রয়োজনটা কি?
আপনি যদি এই পুরো পোস্টটি পড়ে থাকেন তাহলে আপনার এতোক্ষনে এর উত্তর পেয়ে যাওয়ার কথা।
আর আপনি একজন এসইও স্পেশালিস্ট হয়ে থাকেন তাহলে এতোক্ষনে এটি করার অন্য আরেকটি কারনও মাথার মধ্যে চলে আসার কথা।
নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমি কিসের কথা বলছি।
সেটি না হয় আর এখানে না বলি। আপনার প্রতি শুভকামনা রইল।


যেকোনো সমস্যায় আমাদেরকে কমেণ্ট বক্সে কমেণ্ট করে জানান   । 

Post a Comment

1 Comments